বাংলাদেশঅন্যান্য

স্বাধীন-সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিন আজ

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস; বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।

৭০-এর নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় আওয়ামী লীগের জয়লাভের পরও, পূর্বঘোষিত একাত্তরের পয়লা মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায়, বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলা।

৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালির প্রাণে জেগে ওঠে স্বপ্নজয়ের আকাঙ্খা। সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালি প্রস্তুতি নিতে থাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের। মধ্যমার্চে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে বঙ্গবন্ধুর আলোচনাও যখন ব্যর্থ হয়, তখন পাক জান্তা সরকার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে।

বাঙালির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে ২৫ মার্চ কালরাতে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর  বর্বর গণহত্যা চালায় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী। সে রাতেই, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে পাকিবাহিনীর হাতে গ্রেফতারের আগ মুহূর্তে দেয়া সে ঘোষণায় শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে, দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান  বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুর সে ঘোষণাই হ্যান্ডবিল আকারে ইংরেজি ও বাংলায় ছাপিয়ে বিলি করা হয়৷ পরবর্তীতে তা বেতারেও প্রচার করা হয়। এরপরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ৷ হত্যাযজ্ঞের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাঙালিরা এদিন থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ গ্রহণ করে৷

ওই রাতেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা শুরু করে প্রতিরোধ যুদ্ধ; সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ৷  ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা৷ জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button