দেশবাংলা

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায়, বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্য মৃৎশিল্প। কালের বিবর্তন আর শিল্পায়নের যুগে, ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প। এই উপজেলায় বংশ পরম্পরায় এখনও মৃৎ শিল্পকে আকঁড়ে ধরে বেঁচে আছেন অনেক পরিবার। তবে, করোনায় জিনিসপত্র বাজারে বিক্রি করতে না পারায়, ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন অনেকে। হারাতে বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যের এই শিল্প।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার পালপাড়ায় বংশ পরম্পরায়, কয়েক যুগ ধরে মাটি দিয়ে বাহারি ডিজাইনের পুতুল,হাড়ি-পাতিলসহ নানা সৌখিন জিনিসপত্র তৈরী করে, জিবীকা নির্বাহ করে আসছে,কয়েকশ পরিবার। বর্তমানে এঁটেল মাটি,জালানি কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায়, বিপাকে মৃৎশিল্পীরা। পাশাপাশি প্লাস্টিক ও সিলভারের তৈরি পণ্যের কাছেও হার মেনেছে, মাটির তৈরি জিনিসপত্র। ফলে, বদলে যাচ্ছে কুমারপাড়ার দৃশ্যপট। তবুও বাপ দাদার এই শৈল্পিক পেশাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে, প্রতিদিনই সংগ্রাম চলছে তাদের।

প্রতিবছর দুর্গাপূজা,পহেলা বৈশাখসহ,বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে এর কদর বাড়ে। ফলে, এ সময়গুলোতে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখেন,কারিগররা।  কিন্তু করোনায় সব ধরনের উৎসব-পার্বন বন্ধ থাকায়, বেচা-বিক্রি করতে না পারায় অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা এই শিল্পের সাথে জড়িতরা ।

নিকলী উপজেলায় ৩২টি মৃৎশিল্প পরিবারের বসবাস। ইতোমধ্যে ৮টি পরিবারকে ১৮হাজার টাকা করে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে দেয়ার পাশাপাশি, প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক।

বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক মৃৎশিল্প, এ দেশের কুমার সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে টিকিয়ে রেখেছে। এ শিল্পের মালামাল, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও সরবরাহ করা হতো। তাই বাংলার এই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে, সব ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন এ পেশায় জড়িতরা।

ডেস্ক রিপোর্ট/বাংলা টিভি/এস

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button