বাংলাদেশঅপরাধআইন-বিচার

পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা মামলার আসামি মানিক‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে খুনের মামলার আসামি মানিক র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে মিরপুর রুপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানিক মারা যায়।

র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকাটাইমসকে জানান, রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব-৪ এর টহল টিমের কাছে তথ্য আসে রুপনগরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ওই এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টহল টিমকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। র‍্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় থানা পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকাটি সার্চ করে দুই রাউন্ড গুলিসহ মানিককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

ডিআইজি মোজাম্মেল আরও বলেন, নিহত মানিক পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি। সে পল্লবীর স্থানীয় বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

পল্লবী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভোরে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানিক নিহত হয়েছে।

জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৬ মে দুপুরে রাজধানীর পল্লবীতে মো. সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন নিহতের মা আকলিমা ২০ জনের নাম ও অজ্ঞাত আরও ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম. এ. আউয়ালকে।

ঘটনার দিন সাবেক এই সংসদ সদস্যের সঙ্গে চলা জমির বিরোধ মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে ডেকে নিয়ে যান সুমন ও টিটু নামে দুজন। পরে পল্লবীর সেকশন-১২ ব্লক-ডি এর ১২ নম্বর এলাকার একটি গ্যারেজে ঢুকিয়ে তাকে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই দৃশ্য কেউ একজন মোবাইলে ধারণ করেন।

গতকাল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক সাংসদ ও তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব আউয়ালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছে, ঘটনার ৪/৫ দিন আগে আউয়ালের কলাবাগানের অফিসে বাবু ও হাসান কিভাবে সাইনুদ্দিনকে হত্যা করা যায় তার মূল পরিকল্পনা করা হয়। পরে আউয়ালের নির্দেশ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন গ্রেপ্তারকৃত দুইজনসহ ১০/১২ জনের একটি গ্রুপ ১৬ মে বিকালে পল্লবীর ডি ব্লকের সাইনুদ্দিনের বাসায় যায়। বাসা থেকে সুমন তাকে ডেকে আনে। সাহিনুউদ্দিন সন্তানকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। জমির মীমাংসার কথা বলে বাসার পার্শ্ববর্তী একটি গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে তারা সবাই মিলে সাহিনুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

বাংলাটিভি/এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button