
বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট এলাকায় ৯ দিনের ব্যবধানে অন্তত ৭ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে এবং দফায় দফায় এমন কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। আবহাওয়াবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন সাধারণত বড় কোন ভূমিকম্পের আগে বা পরে এমন দফায় দফায় মৃদু কম্পন হয়ে থাকে।
কিন্তু গত ১০০ বছরের ইতিহাসে ওই অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্পের রেকর্ড নেই, সে কারণেই আশঙ্কাটা বেশি। আর বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে রাজধানী ঢাকা। তাই আগে থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে টানা দুই দিনে কয়েক দফা ভূমিকম্পের পর সোমবার আবারও ভূমিকম্প হয় সিলেটে। সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ১ মিনিট ব্যবধানে দুই দফা ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কিত ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন সিলেট নগরবাসী।
ভৌগলিক কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পের ঝূঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা এই তিনটি গতিশীল টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। দেশে বিপজ্জনক ভূকম্পনের প্রধান উৎস সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকার ডাউকি ফল্ট। সম্প্রতি যেসব ভূমিকম্প হয়েছে, তার উৎপত্তিস্থলও ছিল এই ডাউকি ফল্ট। আর এটাই দুশ্চিন্তার বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই ভূতত্ত্ববিদের মতে, এসব উৎসে ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হয় তাহলে এর বড় প্রভাব পড়বে রাজধানীসহ দেশের অনেক অঞ্চলেই।
ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জেষ্ঠ্য আবহাওয়াবিদ মুমিনুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পের কোন পূর্বাভাস পাওয়া যায় না তবে সাধারণত বড় ভূমিকম্পের আগে বা পরে এমন দফায় দফায় মৃদু কম্পন হতে পারে।
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বা প্রতিরোধ কোনোটাই করা যায় না সেজন্য ক্ষয়ক্ষতি যাতে কম হয় তাই আগে থেকেই মহড়ার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাটিভি/ এস



