
সন্ধ্যার একটু আগে, সবাই যখন নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় বিকট শব্দে ভবণে বিস্ফোরণ ঘটে পুরো মগবাজার এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে, ওয়ারলেস গেটের কাছে যে ভবনটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে সেটির নিচতলা অনেকাংশে দেবে গেছে। এই ভবনে থাকা শরমা হাউজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর নিচ তলায় বেঙ্গল মিটের একটি শোরুম ছিল। সেটিরও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত অন্তত ৪০০ জন ৫ টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে অনেককেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও গুরুতর আহতদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ৭।
রোববার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মগবাজার ওয়ারল্যাস গেট এলাকায় অবস্থিত তিন তলা একটি ভবনে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পরেই মৌচাক-মগবাজার সড়কে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার অপজিটের আড়ং ও বিশাল সেন্টারসহ সব ভবনের কাঁচ ভেঙ্গে পড়ে। এলাকার মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
রাজধানীর মগবাজারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর সেখানে আগুনের ঝলকানি দেখা গেছে। বিস্ফোরণটি একটি ভবনে বা ভবনের সামনে হয়েছে। কেউ বলছেন এটি গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ আবার কেউ বলছেন ভবনের এসির বিস্ফোরণ। দুএকজন বলেছেন এটি বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ। তবে প্রকৃত ঘটনা কী তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

রাস্তায় থাকা লাব্বাইকও আল মক্কাসহ ২টি বাস ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাসের অনেক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক, আহতদের মগবাজারের আশেপাশের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, যাদের বেশি ইনজুরি তাদের নেয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেলে এবং অনেকেই দ্বগ্ধ হয়েছেন তাদের শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিটে। মারা গেছেন অন্তত ৭ জন।

ফায়ার সার্ভিসঃ ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো শুরু করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং মগবাজারের কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হয় অনেককে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের কারও কারও শরীর পুড়ে গেছে। তবে বেশিরভাগই আহত হয়েছেন বিস্ফোরণে ছিটকে যাওয়া কাচের আঘাতে।
ঘটনাস্থলে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছে বিস্ফোরণ কী কারণে হয়েছে, এটি এখনো আমরা কোনোভাবেই ডিটেক্ট করতে পারছি না। তবে ধারণা করছি এটি গ্যাস জমে থাকার কারণে কোনো বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে এটি এমন এক বিস্ফোরণ, আমরা এ যাবৎ এমনটা দেখিনি। বাংলাদেশে এটা আর কখনো হয়নি।তিনি আরও বলেন, বিস্ফোরণের কারণে ব্লাস্ট ও সাউন্ড ওয়েভ সৃষ্টি হয়। এতে আশপাশের ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল ভবনের সমস্ত পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি এখনই বলতে পারি ভবনটি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
পুলিশঃ রোববার রাতে ওই বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের পুরনো একটি তিনতলা ভবনে ‘গ্যাস জমে’ বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ফায়ার সর্ভিস তাকে ধারণা দিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের যারা কাজ করেছে, তাদের সাথে কথা বলে যেটা বুঝেছি যে, এখানে কিছু গ্যাস জমে ছিল এবং এই গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের সাতটা বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুইটা বাস বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ৫০ জনের উপরে আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা যেটা খবর পেয়েছি, সাতজন মারা গেছে।
এর পেছনে নাশকতা আছে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, না, আমার কাছে মনে হচ্ছে না। নাশকতা যদি হত, বোমা বিস্ফোরণ যদি হত, স্প্লিন্টারের আঘাতে মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেত, আশপাশের গাড়িঘোড়া আপনারা দেখেছেন, বাস দেখেছেন, বাসে স্প্লিন্টারের কোনো আঘাত লাগেনি। কাজেই এটা বলা যায় যে এটা বোমার কোনো ঘটনা নয়, গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে।
বার্ন ইউনিট পরিস্থিতি:
মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনকে মৃত অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেনবলেন, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় মোট ১৭ জনকে আমাদের এখানে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। তিনজন ছিলেন দগ্ধ। এর মধ্যে দুজনকে আইসিইউতে, একজনকে এসডিইউতে রাখা হয়েছে।
সামন্ত লাল সেন বলেন, মগবাজারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ১৭ জনকে আমাদের এখানে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে আমরা মৃত অবস্থায় পাই। তিনজন ছিলেন দগ্ধ। এর মধ্যে দুজনকে আইসিইউতে, একজনকে এসডিইউতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দগ্ধ তিনজনের অবস্থা খুবই খারাপ। নাইনটি পারসেন্ট বার্ন। তাদের সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। বাকি আহতরা যারা আছেন, তাদের কারও পা কাটা গেছে, কারও পা ভেঙে গেছে।
মগবাজার ওয়্যারলেসের আশেপাশের অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাটিভি/ এস



