বাংলাদেশজনদুর্ভোগস্বাস্থ্য

আপাতদৃষ্টিতে শনাক্ত কম হলেও সামনেই আসছে বড় ধাক্কা

ঈদের পর গত কয়েকদিন করোনায় নতুন শনাক্তের সংখ্যা কম আসলেও, কেবল আপাত পরিসংখ্যান দেখে এখনই সন্তুষ্টির কিছু নেই- বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ঈদের সময় অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের ফলে সংক্রমিতদের শরীরে উপসর্গ দেখা দেবে আগামী ক’দিন থেকে। এ অবস্থায় যে যেখানে অবস্থান করছেন, সেখানে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন তা না হলে, পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সারাদেশের করোনা পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত তিনদিনে দেশে কমেছে করোনার নুতন শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ২১ জুলাই ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬১৪ জন। ২২ জুলাই মারা গেছেন ১৮৭ জন আর নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৬৯৭। গতকাল মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৬, আর ভাইরাসে নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৩৬৪ জন। এর অর্থ যে দেশে করোনা প্রকোপ কমে গেছে তা নয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ঈদের ব্যস্ততার কারণে এমনিতে কম মানুষ করোনা পরীক্ষা করিয়েছে। ফলে কেবল তিনদিনের এ পরিসংখ্যান, দেশে করোনার প্রকৃত চিত্র বোঝায় না। বরং ঈদুল আযহায় মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঢাকা ছেড়েছে, পাশাপাশি কোরবানির পশুর হাটে শারিরীক দুরত্ব না মেনে অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা হয়েছে তার প্রভাবে বর্ধিত সংক্রমণের উপসর্গই দেখা দিতে শুরু করবে আগামী সপ্তাহগুলোতে।

তাই সামনের দিনে করোনার সংক্রমণরোধে অবশ্যই যে যেখানে আছেন, নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

মহামারি নির্মূলে শুধুমাত্র সরকার আরোপিত বিধিনিষেধই যথেষ্ট নয়। ব্যক্তি সচেতনতা না বাড়লে, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় সবাই দায়িত্বশীল আচরণ না করলে সংক্রমণ পরিস্থিত আগামীতে হবে ভয়াবহ।

বাংলাটিভি/ এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button