
বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচে’ বড় গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও শেষ হয়নি ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক। স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পরেই ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছিল বঙ্গবন্ধু সরকার। কিন্তু বিভিন্ন সরকারের সময়ে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে সে সংজ্ঞা। মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখায় দেশের বিশিষ্ট ১৩ ব্যক্তিকে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিষয়টি আবারও সামনে আসে। এদিকে, বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে গেল জুন মাসে একটি রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। এখন বিষয়টির চুড়ান্ত সুরাহা নির্ভর করছে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুসারে তিন বাহিনীর বাইরে সাধারণ নাগরিক যাঁরা কোনো না কোনো বাহিনীর অধীনে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা হবেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা হয়। এর মাধ্যমে যাঁরা সরাসরি যোদ্ধা হিসেবে অংশ নেননি, তাঁদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পন্থায় ঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সংজ্ঞার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে উচ্চ আদালতে এক রিট করেন পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর মূল সংজ্ঞার সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা সংজ্ঞা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে কেন তা বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ২১ জুন রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেছিলেন আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। তিনি জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই–বাছাইয়ের জন্য লাল মুক্তিবার্তাকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অথচ লাল মুক্তিবার্তার আইনগত কোনো অনুমোদনও নেই।
এদিকে, সম্প্রতি একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা ১২ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারের স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে নিয়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতানও মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি শুধু রণাঙ্গনের যোদ্ধাদের জন্যই সংরক্ষিত রাখা উচিত।
এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য মো. আবদুস শহীদ এমপি বলেন, ৭২ সালের মুক্তিযোদ্ধার সজ্ঞারই ধারাবাহিক সংশোধন করা হয়েছে।
হাইকোর্টের রুলে আইনসচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল-জামুকার মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও জামুকার মহাপরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। এই বিতর্কের সমাধান কি হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
বাংলাটিভি/ এস/ রিয়েল



