fbpx
খেলাধুলাক্রিকেট

জয়ের পরেও কঠিন সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ

হারলেই বিদায়ের ঘণ্টা বাজবে বাংলাদেশের। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন হয়নি। ওমানের বিপক্ষে ২৬ রানের জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার আশা টিকে থাকবো বাংলাদেশের।

নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি ওমান ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ড যদি ওমানকে হারিয়ে দেয় এবং বাংলাদেশ যদি পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে জয় পায়, তাহলেই সুপার টুয়েলভে উঠবে মাহমুদউল্লাহর দল।

এর আগে ওমানের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৩ রান করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন নাঈম শেখ। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ১২৭ রান করে ওমান।

রান তাড়া করতে নেমে বেশ আত্মবিশ্বাসী শুরু করে ওমান। বোলিংয়ের শুরু থেকেই অগোছালো ছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১২ রান দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে উইকেট পেলেও পাঁচটি ওয়াইড দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছয় বলের ওভার মুস্তাফিজ করেন ১১ বলে।

শুধু বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়েও বেহাল দশা ছিল বাংলাদেশের। বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিস করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। সহজ ক্যাচ মিস করেছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ষষ্ঠ ওভারে উইকেটের সুযোগ তৈরি করলেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসারের বল আকাশে তুলে দিলেন জাতিন্দর সিং। অনেক সময় পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ, বলের নিচে গিয়ে দুই হাতে ধরেছিলেনও। কিন্তু মুঠোয় আটকে রাখতে পারলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১০ রানে জীবন পেয়ে গেলেন জাতিন্দার সিং। ক্যাচ মিস করেন মুস্তাফিজ নিজেও।

মুস্তাফিজ দুই উইকেট তুলে নিলেও বেশ চাপে বাংলাদেশ। সাইফউদ্দিনের ওভারে ক্যাচ তুলে দেন ক্যাশপ প্রজাপতি। ঝাঁপিয়ে দুই হাতে বল ধরলেও মুঠোয় রাখতে পারেননি মুস্তাফিজ। ছয় ওভারের মধ্যে মুস্তাফিজ দুই উইকেট নিলেও বাজে ফিল্ডিংয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

১৩তম ওভারে জাতিন্দরকে আউট করে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান সাকিব। ৩৩ বলে ৪৪ করে ফিরে যান ওমানের এই টপ অর্ডার। সেখান থেকেই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রানের গতি কমে যায় ওমানের। বাংলাদেশি বোলাররাও আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। চেপে ধরে ওমানকে। শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা।

বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে চার ওভারে সর্বোচ্চ চার উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৮ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মেহেদী নিয়েছেন এক উইকেট।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম বল থেকেই বেশ নড়বড়ে দেখা যায় বাংলাদেশি ওপেনারদের। দুই ওয়াইড পেয়ে রানের খাতা খোলে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ওপেনাররা নিতে পেরেছেন কেবল এক রান।

দ্বিতীয় ওভারে স্ট্রাইক পান লিটন। কলিমউল্লাহর বল তাঁর ব্যাটের বাইরের কানা ঘেঁষে যায়। কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দিলেন আম্পায়ার। সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন লিটন। আল্ট্রা এজে গিয়ে বেঁচে যান লিটন। জীবন পেয়েও থিতু হতে পারেননি লিটন। পরের ওভারের পঞ্চম বলে সেই এলবি হয়েই ফিরে যান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বাঁহাতি পেসার বিলাল খানের ফুল লেংথ বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি লিটন। এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় ওমান। রিভিউতে স্পষ্ট দেখা যায় বল লাগতো লেগ-মিডল স্টাম্পে। ৬ রানে বিদায় নেন লিটন।

লিটনের পর ওয়ান ডাউনে নেমে ফিরে যান মেহেদী হাসানও। ২১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৪ বল খেলে রানের খাতাও খুলতে পারেননি মেহেদী। পঞ্চম ওভারে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে শট খেলতে চেয়েছিলেন মেহেদী। টাইমিং ঠিক হয়নি, ঝাঁপিয়ে মুঠোয় ক্যাচ জমান ফায়াজ।

দুই উইকেট হারানোর পর বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। কমে যায় রানের গতিও। অস্বস্তিতে পড়ে যান ব্যাটসম্যানরা। বারবারই ভুল করে বসেন থিতু হয়ে যাওয়া নাঈম। প্রথম আট ওভারে তিনবার জীবন পান নাঈম।

সেই সুবিধা পরে অবশ্য কাজে লাগান নাঈম। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। দুজনে মিলে রানের গতিও বাড়ান। ৩৯ বলে এই জুটিতে আসে ৫০ রান। শেষ পর্যন্ত ৮০ রানে ভাঙে এই জুটি। দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হয়ে ফিরে যান সাকিব। ২৯ বলে ৪২ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি।

সাকিব ফিরলেও থিতু ছিলেন নাঈম। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। ৪৩ বলে নিজের প্রথম হাফসেঞ্চুরি স্পর্শ করেন নাঈম। এর মাঝে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যর্থ হন নুরুল হাসান সোহান। টিকতে পারেননি আফিফ হোসেনও। এরপর আউট হয়ে যান নাঈম। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা নাঈম ৫০ বলে ৬৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। বড় লক্ষ্যের আশায় থাকা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১৫৩ রানে থামে।

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button