“নির্বাচন করতে গিয়ে কর্মী মারা গেলে ১০ লাখ টাকা”

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজের একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিও বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
গত ২৫ ও ২৬ অক্টোবর তার নির্বাচনী রাঙাভিলা এলাকায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী কর্মী সভায় চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজ প্রকাশ্যে বলেন, আমার নির্বাচনে মারামারি করে যদি কেউ মারা যায় তাহলে আমি তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেবো। আর যদি কেউ মারামারি করে হাসপাতালে ভর্তি থাকে তাহলে আমি তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবো। এমনকি তার সংসারের খরচও আমি চালাবো।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাইট্টা ঢোঁড়া সাপ। চুপ করে শুয়ে থাকি, আর যখন কামড় মারি তখন মাংসসহ ছিঁড়ে ফেলি’।
কর্মী সভায় দেওয়া তার এ বক্তব্যের ভিডিও সম্প্রতি ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা জেলার নানা মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজ বলেন, ১৯৮৬ সালে এই ইউনিয়নের ইউপি নির্বাচনে সোনামিয়া সরকার ও পাখি নামের দুই প্রার্থীর নির্বাচনে উত্তর রাঙাভিলা এলাকায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ জন লোক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল।ওই নির্বাচনে সোনামিয়া সরকার নির্বাচিত হয়। যা পরবর্তীতে নিহতের পরিবার কিছুই পায়নি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করার প্রেক্ষিতে আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলি- আমার নির্বাচনে মারামারি করে যদি কেউ মারা যায় তাহলে আমি তার পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেবো। আর যদি কেউ মারামারি করে হাসপাতালে ভর্তি থাকে তাহলে আমি তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবো। এমনকি তার সংসারের খরচও আমি চালাবো।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ মুঠোফোনে জানান, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।এই প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে জেনে বলা যাবে।
সিরাজদিখান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আমি শুনেছি। এ ধরণের বক্তব্য সমীচিন নয়।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ডিসেম্বর সিরাজদিখান উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি)নির্বাচন হতে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম যুবরাজ এবারও দলীয় প্রতীক নৌকা প্রত্যাশী।



