fbpx
বাংলাদেশ

হাদিসুরের মরদেহ আগামীকাল দেশে পৌঁছাবে: রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত

KSRM

ইউক্রেইনের বন্দরে আটকে থাকা জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলায় প্রাণ হারানো থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমানের মরদেহ রোববার বিকালে ঢাকায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী।শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ১০টা ৫৫ মিনিটে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি শেষ রাতে রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে মরদেহ পৌঁছাবে বলে আশা করার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, হাদিসুরের মরদেহ রোমানিয়ার পথে রয়েছে। বুখারেস্টে তার মরদেহ পৌঁছানোর পর ঢাকায় পাঠাতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।“১৩ মার্চ (রোববার) বিকালে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছার সূচি রয়েছে।“

এর আগে বিকালে পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভোরে ইউক্রেইন থেকে রোমানিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় হাদিসুরের মরদেহবাহী গাড়ি। মলদোভা হয়ে সেটি রোমানিয়ায় পৌঁছাবে। ইউক্রেইনে যুদ্ধের মধ্যে রকেট হামলায় নিহত হাদিসুরের সঙ্গে থাকা ওই জাহাজের সহকর্মীরা অনেক পথ পেরিয়ে গত বুধবার ঢাকায় আসেন। জাহাজ থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ের বাংকার পর্যন্ত মরদেহ নিয়ে এসেছিলেন তারা। তবে যুদ্ধের ময়দান থেকে আর তা তাদের সঙ্গে আনতে পারেননি।

তাদের দেশে ফেরার খবরে ওইদিন বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন হাদিসুরের পরিবারের সদস্যরা। তারা আকুতি জানান দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। ওলভিয়া বন্দরে আটকে থাকা অবস্থায় ২ মার্চ রকেট হামলার মুখে পড়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। তাতে নিহত হন ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর।

আতঙ্ক ও ক্ষোভের মধ্যে পরদিন ৩ মার্চ জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নাবিকদের বাংলার সমৃদ্ধি থেকে নামিয়ে আনা হয়। সেখান থেকে একটি শেল্টার হাউজের বাংকারে ঠাঁই নেন নাবিকরা। হাদিসুরের মরদেহও রাখা হয়েছিল বাংকারের ফ্রিজারে। উদ্ধার পাওয়ার তিন দিন পর মলদোভা হয়ে ২৮ নাবিক রোমানিয়ায় পৌঁছান। সেখান থেকে বুধবার বিমানে দেশে ফেরেন এই জাহাজিরা।

শুক্রবার দুপুরে হাদিসুরের মরদেহ দেশে আনা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউক্রেইনের ওলভিয়া এলাকা থেকে রওনা করে হাদিসুরের মরদেহবাহী গাড়ি। মলদোভা হয়ে বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে মরদেহ বুখারেস্টে পৌঁছাতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় মরদেহ রোমানিয়ায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রোমানিয়ায় দূতাবাসের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। সেখান থেকে দেশে আসতে দুই-তিন দিন লাগতে পারে।”বরগুনার বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে হাদিসুর ছিলেন মেজ।

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button