ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৩৫

নেটো সদস্যদেশ পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী পশ্চিম ইউক্রেইনের লিভভ অঞ্চলের কাছে একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রোববার রাশিয়ার একাধিক বিমান হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেইনের এক কর্মকর্তা।
ইউক্রেইনের ওই সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি লিভভ শহরের ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের জেলা ইয়াভোরিভে অবস্থিত। সেখানে রাশিয়া ৩০ টি রকেট ছুড়েছে।
ঘাঁটিটিতে এর আগে বিদেশি সামরিক প্রশিক্ষকরা কাজে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেইন। তবে নেটোর একজন কর্মকর্তা বলছেন, ঘাঁটিটিতে নেটো জোটের কোনও সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন না। ওই ঘাঁটিতে নেটোর সদস্য নয় এমন দেশগুলোর কোনও প্রতিনিধি ছিল কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ছবিতে রুশ হামলার পর ওই এলাকার আকাশে ঘন ধোঁয়াও দেখা গেছে। কর্মকর্তারা হামলার কথা জানানোর আগে রোববার অঞ্চলটির বাসিন্দারাও বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিল।
লিভভের মেয়রও সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে টুইটারে এক সাংবাদিক জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক গভর্নর মাকসিম কজিতস্কি জানান, ইয়াভোরিভের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রে রাশিয়া ৩০ টি রকেট ছুড়েছে। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিশানায় আঘাত হানার আগেই ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।হামলায় ৩৫ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার কথাও জানান মাকসিম। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার বিবৃতি যাচাই করতে পারেনি।
ইউক্রেইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ অনলাইনে এক পোস্টে বলেছেন, রাশিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হামলা করেছে। বিদেশি প্রশিক্ষকরা সেখানে কাজ করেন। হামলার সময় তাদের কেউ সেখানে ছিলেন কিনা এবং কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট করে জানার চেষ্টা চলছে।
পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত ৩৬০ স্কয়ার কিলোমিটারের ওই সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বড় একটি স্থাপনা।
পশ্চিম ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শহর লিভভে এখন পশ্চিমা কূটনীতিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অবস্থান করছেন; ইউক্রেইন থেকে অন্যত্র পালাতে চাওয়া অসংখ্য মানুষও সেখানে আটকা পড়ে আছে,পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরের লিভভের পাশাপাশি রোববার স্থানীয় সময় সকালে পশ্চিমের আরেক শহর ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্কেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ইউক্রেইনের বিভিন্ন গণমাধ্যমও একই ধরনের খবর দিয়েছে। পশ্চিমের ওই শহরগুলো ছাড়াও রোববার সকালে ইউক্রেইনের বিভিন্ন অংশেই বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন শোনা গেছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেইনে ‘সর্বাত্মক হামলা’ শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর রুশ বাহিনী শুরুর দিকে উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণের বিভিন্ন শহরের দিকে মনোযোগী ছিল; কিন্তু গত কয়েকদিনে তাদেরকে পশ্চিমের বিভিন্ন শহরেও হামলা চালাতে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাটিভি/শহীদ



