নির্বাচননির্বাচন কমিশনবাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় কঠোর শর্ত ইসির

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোটের প্রচারণা পরিচালনায় কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য এই বিধিমালা কার্যকর হবে অবিলম্বে।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং ২০০৮ সালের আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতে বেশকিছু নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ জারির পর সোমবার আচরণবিধিটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কেউ সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন। যদিও এ ক্ষেত্রে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে ব্যবহৃত সামাজিক মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ইমেইল আইডি এবং অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।

আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনোভাবেই অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল বা বিকৃত তথ্য, কারও চেহারা বিকৃত করা কিংবা নির্বাচনসংক্রান্ত বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়া প্রতিপক্ষ প্রার্থী, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক, আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি ব্যবহার করে নির্বাচনী স্বার্থ হাসিলের চেষ্টাও আচরণবিধি বিরোধী হিসেবে গণ্য হবে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত সব কনটেন্ট প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কোনো ব্যক্তি ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কোনো প্রার্থীর চরিত্র হনন বা সুনাম নষ্ট করতে, কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতদুষ্ট, অশ্লীল বা মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করতে পারবেন না।

গুজব ও এআই-এর অপব্যবহার রোধে এবারের আচরণবিধিতে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে এসব কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button