সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ২ মামলায় ক্র্যাবের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) এর স্থায়ী সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় দুটি মিথ্যে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের এবং হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব)।
গত ৩০ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হলেও সম্প্রতি তা জানাজানি হয়। মামলা করার বিষয়গুলো গোপন রেখে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ক্র্যাব মনে করে, কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারি মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে যথাযথ যাচাই থাকা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দপ্তর সম্পাদক ইসমাঈল হুসাইন ইমু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ঘটনায় ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কোনো পেশাদার সাংবাদিকের ওপর কোনো ধরনের হয়রানি ক্র্যাব মেনে নেবে না এবং অবিলম্বে এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
জানা গিয়েছে- খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দুটির ১টি তথ্য প্রযুক্তি আইনে এবং ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করে মামলা করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত সদস্য এম এন আবছার। মামলা নং- ১৭, তারিখ-৩০/০৮/২০২৬।
তথ্য প্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলা করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সাবেক এপিএস হিসেবে পরিচিত প্রফুল্ল ময় দত্ত ওরফে এইচ এম প্রফুল্ল। মামলা নং ১৮, তারিখ-৩০/০৮/২০২৬।
অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ এইচ এম ফারুক জানিয়েছেন- তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর সাংবাদিকতা করছেন। বিশেষ করে বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা ক্রাইসিস ও ভারত-মিয়ানমার সিমান্ত বিষয়ে গবেষণা করছেন। নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় লিখেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে অংশগ্রহণ করে আলোচনা করেন।
পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন, লেখালেখি করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বঞ্চিত করে রহস্যজনকভাবে দলের কেউ নন এমন একাধিক ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিষদের ৩য় শ্রেণির কর্মচারী চাকরিরত ম্রাসাথোয়াই মারমা নামে একজনকে চাকরি থেকে অব্যহতি করিয়ে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে। তিনি সুখে চাকরি করেছেন, অথচ এটা ১৭ বছর জেল-জুলুমের শিকার নেতাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ প্রাপ্য ছিলেন। তাছাড়া ইউপিডিএফ কানেক্টেড এবং আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিল এমন একাধিক ব্যক্তিকেও জেলা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। এসব বিষয়ে লেখালেখি ও প্রতিবাদ জানানোর কারণেও আভ্যন্তরীণ কিছু গ্রুপিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। কতিপয় প্রভাবশালী নেতা যারা দল ব্যবহার করে অপকর্মে লিপ্ত, তারাও ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। শুনেছি তারা আমাকে মামলা-হামলা করে হয়রানি নির্যাতনের পথ বেছে নিচ্ছে। তার অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার এবং জনৈক প্রফুল্ল মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।
আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার আছে। কিন্তু বাদি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় দলের প্রভাব বিস্তার করে আইনশৃংখলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছেন। আমার এবং পরিবারের ফোন ট্রেকিং করছে।
এ এইচ এম ফারুক দৈনিক ইনকিলাব, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা টিভি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও পরিবর্তন ডটকম এবং সর্বশেষ মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
এখন তিনি ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের উপসম্পাদকীয় ও কলাম লিখেন।



