অন্তর্বর্তী সরকারবাংলাদেশ

ইউনূস সরকারকে কীভাবে মনে রাখবে বাংলাদেশ

সুন্দর সকাল সব সময় সুন্দর দিনের বার্তা দেয় না— এমন আক্ষেপ থেকেই অনেকে মূল্যায়ন করছেন মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার শপথ নিলে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে এ অন্তর্বর্তী প্রশাসনের দায়িত্ব।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতে দেশ–বিদেশে ব্যাপক সমর্থন ও আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, নোবেলজয়ী ইউনূস জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলবেন, দুর্নীতি কমাবেন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবেন।

তবে সমালোচকদের মতে, গত ১৮ মাসে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং রাজনৈতিক বিভাজন, প্রতিহিংসার অভিযোগ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। ইউনূসের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, গ্রামীণ ব্যাংক–সংশ্লিষ্ট কর সুবিধা ও মালিকানা কাঠামোর পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মব সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী নিপীড়ন এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে সমালোচনা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।

অর্থনীতিতেও চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)–এর তথ্যে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের বেশি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক দারিদ্র্য বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা বলেছে। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক–এর হিসাবে খেলাপি ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ী মহল উচ্চ সুদের হার, জ্বালানি সংকট ও নীতিগত অনিশ্চয়তার অভিযোগ তুলেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও অস্থিরতা এবং গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলো আলোচনায় এসেছে।

সমর্থকদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকার কঠিন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সমালোচকদের মতে, সম্ভাবনার যে জানালা ‘জুলাই আন্দোলন’ তৈরি করেছিল, তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সামাজিক শান্তি ফিরে পাবে— এমন প্রত্যাশাই এখন অনেকের।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button