
দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে সময়োপযোগী ও বাজারচাহিদাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ জোরদার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং কারিকুলাম আধুনিকায়ন অপরিহার্য।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর-এর সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন সূচক ও কর্মদক্ষতা নির্দেশক (কেপিআই) প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তিনি স্বীকার করেন, শিল্পখাত-একাডেমিয়ার সমন্বয় এবং বাজারমুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজ নিজ দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে উদ্যোগী হতে হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত, কারণ এখান থেকেই মানবসম্পদ তৈরি হয়।
প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ—এই বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে তা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। উন্নত বিশ্বের বহু দেশে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষতায় রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি, ভোকেশনাল ও পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী দক্ষতার ওপর বেশি জোর দিতে হবে। এজন্য বিদ্যমান কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণব্যবস্থার সমন্বিত পর্যালোচনা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।



