
সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, তিনি নীতির প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। শক্তিশালী মহলের সঙ্গে সমঝোতা করলে হয়তো অনেক সহজে থাকা যেত, কেউ বিরক্ত করত না—বরং কোনো ভুল করলেও তারা সেটি আড়াল করে দিত।
শনিবার (৭ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক সময় ভালো মানুষও খারাপ হয়ে যায়। কারণ শক্তিধর গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা না করে এবং তাদের এজেন্ডা অনুসরণ না করলে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। যেমন—সরকারি সিদ্ধান্ত ও আইনি জটিলতা উপেক্ষা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে শপথ পড়ানো, ফাঁসির আসামি শেখ হাসিনাকে সমর্থন করা সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, শাপলা চত্বর ও মোদিবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি না দেওয়া, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে অবৈধভাবে সিন্ডিকেটভিত্তিক কমিটি বসানো কিংবা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা না দেওয়া—এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা করলে হয়তো চাপ কম থাকত।
সমঝোতা না করায় তার সহযোগীদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, তার ঘনিষ্ঠ মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১১ মাস তদন্ত চালিয়েও কোনো প্রমাণ না পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। তবে এই সময়টাতে অসংখ্য সংবাদ ও প্রচারণার মাধ্যমে তার এবং তার পরিবারের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। এমনকি অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেননি বলেও দাবি করেন।
পোস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে ‘এতিমের টাকা আত্মসাতের’ অভিযোগ তুলে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছিল। তার মতে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান না হলে হয়তো কারাগারেই তার মৃত্যু হতে পারত।
তিনি আরও বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেও যখন এমন আচরণ করা সম্ভব হয়েছে, তখন অন্যদের অবস্থান আরও দুর্বল। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়া গেলে অনেক সময় মিডিয়া ট্রায়াল ও ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে তাকে দমন করার চেষ্টা করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



