মধ্যপ্রাচ্যএশিয়া

ভেঙে পড়ার পথে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী, সেনাপ্রধানের সতর্কবার্তা

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, বাড়তে থাকা সামরিক চাপ এবং তীব্র জনবল সংকটের কারণে দেশটির সেনাবাহিনী ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানা গেছে।

তিনি সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে একাধিক সতর্ক সংকেত তুলে ধরে বলেন, এই মুহূর্তে Israel Defense Forces–এর জন্য বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং সামরিক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে নিয়মিত সামরিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এই মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিরোধী নেতারা সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে আল্ট্রা-অর্থোডক্স (হারেদি) সম্প্রদায়ের যুবকদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে।

একই বৈঠকে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ জানান, পশ্চিম তীর অঞ্চলে সরকারের নীতির কারণে সেনাবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন বাড়ায় নিরাপত্তা দায়িত্বও বেড়েছে, যা ইতিমধ্যেই জনবল সংকটে থাকা বাহিনীর জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এদিকে ইরান–সম্পর্কিত উত্তেজনা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। এতে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ সরকারকে দায়ী করে বলেন, সুস্পষ্ট কৌশল ও পর্যাপ্ত জনবল ছাড়াই সেনাবাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারবেন না।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, জনবল সংকট এবং রাজনৈতিক মতবিরোধ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button