বাংলাদেশ

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ পাস

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিতে প্রণীত আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বুধবার ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল’ সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তা অনুমোদন পায়। এর আগে রাষ্ট্রপতি গত ২৫ জানুয়ারি একই বিষয়ের ওপর একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন, যা এখন আইনে পরিণত হলো।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে দায়ের করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় অংশগ্রহণের অভিযোগে নতুন করে কোনো মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ থাকবে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত আইনজীবী আদালতে আবেদন করবেন এবং আদালত তা প্রত্যাহারকৃত হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেবেন।

তবে আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় যদি কারও বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেই অভিযোগ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-এ দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্ত করবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্ত চলাকালে কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ঘটনা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলকভাবে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে আদালত সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আর যদি সেটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে কমিশন, এবং সে ক্ষেত্রে পৃথকভাবে আদালতে মামলা করা যাবে না।

সব মিলিয়ে, এই আইন একদিকে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা দিচ্ছে, অন্যদিকে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে একটি বিকল্প তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button