বাংলাদেশ

শিক্ষা কারিকুলামে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন

বাংলা টিভি ডেস্ক: ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে অন্যান্য বইয়ের পাশাপাশি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা) এবং ‘সোশ্যাল কালচার’ (সমাজ সংস্কৃতি) নামে দুটি নতুন পাঠ্যবই পাবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।

নতুন কারিকুলামে শারীরিক শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এটি বাধ্যতামূলক করা হবে। এর আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কারাতে, দাবা, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই বিষয়ে কোনো লিখিত পরীক্ষা না থাকলেও ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালু থাকবে।

একই সঙ্গে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবোটিকসসহ নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকার তিন ধাপে এই কারিকুলাম পরিবর্তন বাস্তবায়ন করবে—পাঠ্যবই পরিমার্জন, কারিকুলাম পর্যালোচনা এবং নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়ন। নতুন ব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভরতার বদলে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পাঠদান, সমস্যা সমাধান দক্ষতা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনার ওপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট, ইন্টারঅ্যাকটিভ লার্নিং ও আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতিও যুক্ত করা হবে।

এ লক্ষ্যে প্রায় ২০০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষাবিদ, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। চলতি বছরে পরিকল্পনা ও কমিটি গঠন, ২০২৭ সালে বই পরিমার্জন ও প্রশিক্ষণ এবং ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনায় চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শারীরিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও শিল্পকলাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখা, দলগত কাজ, জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে—যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো কারিকুলাম সফল হয় না। তাই শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্রম প্রণয়নই হবে এই সংস্কারের মূল চ্যালেঞ্জ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button