
বাংলা টিভি ডেস্ক: টানা বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্ধেকের বেশি ধান এখনো মাঠে থাকায় কৃষকদের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত রোববার রাত থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে সুরমা নদী ও কুশিয়ারা নদীসহ অন্যান্য নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার ১২ উপজেলার ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪১ শতাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে; বাকি রয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল।
টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে পারছেন না কৃষকেরা। শ্রমিকসংকটের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারও সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই বেশি মজুরিতে ধান কাটলেও রোদ না থাকায় তা শুকাতে পারছেন না। ফলে কাটা ধানে অঙ্কুর গজানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, পানিতে ডুবে থাকা জমিতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় হাঁটু থেকে ঊরুসমান পানি জমে থাকায় শ্রমিকরাও মাঠে নামতে অনাগ্রহী। এতে খরচ বেড়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিতভাবে ধান ঘরে তুলতে পারছেন না তারা।
কৃষক সংগঠনগুলোর মতে, ধান কাটা, বহন ও শুকানো—সব মিলিয়ে চতুর্মুখী সংকটে পড়েছেন হাওরবাসী। শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে কয়েকগুণ।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ধান কাটার কাজ চলতে পারে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ি ঢলের চাপ সামলানো কঠিন হতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত হাওর রক্ষা বাঁধ অক্ষত রয়েছে, তবে টানা বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে।



