আগের পোশাকেই ফিরছে পুলিশ

বাংলা টিভি ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আগের পোশাকেই ফিরছেন পুলিশ সদস্যরা। শার্ট আগের মতোই থাকবে, মেট্রোপলিটন এলাকায় সবুজ এবং সারা দেশে নীল। প্যান্ট থাকবে খাকি রঙের।’
সোমবার সচিবালয়ে ‘বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় পুলিশের নতুন পোশাক মানানসই নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা লক্ষ করেছি, সারা দেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে, এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। শুদ্ধ বাংলায় ‘মানানসই না’। সে জন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি। একটি ঐতিহ্যবাহী ‘ড্রেস’ যেন দেওয়া যায় সেটাও আমরা বিবেচনা করেছি।”
পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের অগ্রগতির বিষয় জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আগের ‘শার্ট’ যেটা কী বলব, ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল ‘মেট্রোর’ জন্য এবং সারা দেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রেখেছি। তবে প্যান্ট-পাজামা সেটা আমরা খাকি ‘ড্রেস’ দিয়েছি।”
তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে দিয়েছি। সেটা তাঁদের পরিধান করতে আর কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ একটা প্রস্তুতির বিষয় আছে, কাপড় প্রোডাকশনের বিষয় আছে। এটা এখনো আমরা অফিশিয়ালি ঘোষণা করিনি, তবে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। আজ ঘোষণা দিলাম।’
একজন সাংবাদিককে গতকাল বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখব।’
মন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসী আদালতের মাধ্যমে জামিন পেয়েছে, এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই। এসব ব্যক্তি সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকার এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনগণকে স্বস্তি দিতে কাজ করছে সরকার, যদিও এর জন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্যঃসমাপ্ত প্রথম অধিবেশন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই পার্লামেন্ট। এই পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন ছিল সবচেয়ে ‘লাইভলি, ভাইব্রেন্ট’। এই পার্লামেন্টের কন্ট্রিবিউশন ছিল ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এই পার্লামেন্টে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক না হলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিতর্ক হয়েছে এই পার্লামেন্টে। এখানে পজিশন ছিল, অপজিশন ছিল। সবার বক্তব্য ছিল, কিন্তু ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক ছিল, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।’
গতকাল বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রথম অধিবেশন আসলে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয় কী বলবেন? এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো সবই পুরনো অভিযোগ, নতুন নয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাঁর মতামত দিতেই পারেন। আমরা আমাদের বক্তব্য দিয়েছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিতর্কটা হবেই। দ্বিমত এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্যই এই গণতন্ত্র। সুতরাং তাঁর বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। আমার বক্তব্য আমি দিলাম।’



