৩৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ

বাংলা টিভি ডেস্ক: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির সংকট মোকাবিলা ও নদ-নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডার স্লুইস ও দুটি ফিশ পাস। ব্যারাজের মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সংরক্ষিত পানি বণ্টনের জন্য নির্মাণ করা হবে তিনটি অফটেক অবকাঠামো। এছাড়া ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কথাও রয়েছে প্রকল্পে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ব্যারাজের মাধ্যমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক মিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এর ফলে ধান উৎপাদন প্রায় ২৪ লাখ টন এবং মাছ উৎপাদন প্রায় ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে যে পানিসংকট তৈরি হয়, তা কমাতে বহু বছরের গবেষণা ও সমীক্ষার পর এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে বলে প্রত্যাশা সরকারের।



