
বাংলা টিভি ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকালীন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজ) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, এদেশের শিশুরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল। তাদের কথা না শুনে খুনি হাসিনা পাখির মতো গুলি করে শিশু, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক র্যালি উত্তর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, উত্তরায় সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট পরা কলেজ ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়; পিচঢালা রাস্তায় রক্তের নহর বয়ে যায়। সে সময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলেও খুনি হাসিনার মন গলেনি।
কাদের গনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন আহতদের বিষয়ে বলা হয়েছিল— ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। কাউকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, আবার ছাড়পত্রও দেওয়া হয়নি। এতবড় নির্দয় ও হিংস্র শাসক মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে না।
ফ্যাসিস্টের দোসরদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমরা দেখছি, ফ্যাসিস্টদের দোসররা আজও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আমরা লড়াই করে হাসিনাকে তাড়িয়েছি। কেউ যদি এই ছাত্র হত্যার বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ বা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায়, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের খুনিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। খুনি হাসিনা এবং তার চিহ্নিত দোসররা যারা জুলাই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের, বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এবং দেশে থাকা আসামিদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, সহ-সভাপতি নূরুল মোমেন তালুকদার, ডিইউজে নেতা এম. মোশারফ হোসেন ও নিজাম উদ্দিন দরবেশ প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ে গণআন্দোলনের তোড়ে এদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শেখ হাসিনা। ভারতে যাওয়ার আগে, আমাদের দেশের দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। ত্রিশ হাজার ছাত্র-জনতাকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, যেই দেড় হাজারের মতো ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, এর মধ্যে ছয়জন সাংবাদিকও শহীদ হয়েছে। আমাদের দেড় হাজারের মতো সাংবাদিক সারা দেশে আহত হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুনতে পাই, সে নাকি বাংলাদেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি তার জন্য। এয়ারপোর্টে তাকে স্বাগত জানানো হবে ফাঁসির রশি দিয়ে।



