‘বাধ্য হয়েই ঘুস দিলাম, এহন কাজ হবে নে’

ফরিদপুর প্রতিনিধি( ডিজিটাল): ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের এক অডিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার হওয়ার পাশাপাশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলার এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে।
অভিযোগের তীর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের দিকে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের ফাইল নিষ্পত্তিতে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি ও ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ থাকলেও ভুক্তভোগীদের অনেকেই পরবর্তীতে আরও হয়রানির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।
ভাটদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি একটি ঋণের জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে ঘুরছিলেন। একপর্যায়ে কাজ এগিয়ে নিতে তাকে টাকা দিতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিওতে মাহবুবুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, “বুঝেন না, কী আর করা, বাধ্য হয়েই দিলাম।” তিনি আরও জানান, ঋণের টাকা না পাওয়ায় ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ‘আজ না কাল’ বলে তাকে ঘোরানো হচ্ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অডিট কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রথমে তা অস্বীকার করেন। পরে ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে জানানো হলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের পাশাপাশি প্রতিবেদককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মুহাম্মাদ মসিউর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি ‘ওভারলুক’ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ভুল করেছেন এবং প্রয়োজনে তাকে অন্যত্র বদলি করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক নেতা বলেন, হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে চাকরিজীবনে পরবর্তী সময়ে হয়রানির আশঙ্কায় অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও এস এম রকিবুল হাসান বলেন, সেবা নিতে আসা মানুষকে জিম্মি করে উৎকোচ নেওয়া অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জানার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন।
সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারও জড়িত। তাই অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার পাশাপাশি সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



