তহবিলের ১৩ লাখ টাকা নিয়ে ৯৯ হাজারের হিসাব দিয়েছেন রাকসু ভিপি

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১০ মাসে ৪২টি কর্মসূচির জন্য রাকসু তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নিয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা পড়েনি। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঈদুল আজহার একটি কর্মসূচির ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হলেও বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার হিসাব এখনো দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে দাপ্তরিক খরচ, ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রদর্শন, ‘ভিক্টরি রান উইথ রাকসু’ এবং ‘জুলাই জাদুঘর’ স্থাপনের জন্য নেওয়া অর্থও রয়েছে।
ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ অবশ্য দাবি করেছেন, সব বিল এখনো জমা না পড়লেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা দেওয়া হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অডিটের সময় বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো হিসাবে গরমিল থাকলে প্রয়োজনে নিজ অর্থ দিয়ে তা সমন্বয় করা হবে।
সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ নিয়েছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। সাত ধাপে তার নামে মোট ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের ভাউচার জমা হয়নি। ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপন, রাকসু সংসদ সদস্যদের বাজেট এবং সদস্যদের দাপ্তরিক খরচের জন্য এসব অর্থ নেওয়া হয়েছিল।
জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট ও ব্যয়ের হিসাব সমন্বয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আবার সংসদ সদস্যদের জন্য নেওয়া অর্থের একটি অংশের হিসাব সংশ্লিষ্ট সম্পাদকের কাছ থেকে না পাওয়ায় সেটিও জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
জিএসের পর সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ পেয়েছেন রাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন। তার নামে সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার ভাউচার জমা পড়েনি। ক্রীড়া সম্পাদক জানান, রাকসু গেমস ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কিছু কার্যক্রম চলমান থাকায় এসব অর্থের হিসাব এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়া বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্কর ছয় ধাপে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ টাকা, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহা তিন ধাপে ৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি.এম. নাজমুল সাকিব তিন ধাপে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। তাদের নেওয়া অর্থেরও একটি উল্লেখযোগ্য অংশের ভাউচার এখনো জমা হয়নি।
মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের নেওয়া অর্থেরও কিছু অংশের হিসাব বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, কর্মসূচি চলমান থাকা, হিসাব সমন্বয় কিংবা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার কারণে ভাউচার জমা দিতে দেরি হয়েছে।
রাকসুর সাবেক নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দের মতে, সরকারি অর্থ অগ্রিম নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা হিসাবের মাধ্যমে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক। আগের বিলের হিসাব সমন্বয় না করে পরবর্তী অর্থ উত্তোলন করা হলে সেটিকে আর্থিক অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সম্পাদকীয় পদের নির্দিষ্ট বরাদ্দ রয়েছে এবং আর্থিক বিধি অনুযায়ী সব ব্যয়ের হিসাব রাকসুর সভায় উপস্থাপন করতে হয়।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানান, কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথিতে এখনো অনেক বিল-ভাউচার জমা না হওয়ার তথ্য রয়েছে। তার মতে, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব ও ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। এজন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামও দ্রুত বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয় হলে অবশ্যই তার যথাযথ হিসাব দিতে হবে এবং রাকসুকেও আর্থিক স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলতে হবে।



