বিএনপির বাইরেও ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল

বাংলা টিভি ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৪৩টি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট শেষে গণনা সম্পন্ন হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। মির্জা ফখরুল ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ ৮৮ ভোট পাওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলের সঙ্গে করমর্দন করে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্য সংসদ সদস্যরাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাকে পরস্পরকে কোলাকুলি করতেও দেখা যায়। পরে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির ভোটের চেয়ে ১১ ভোট বেশি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর নিজ দল বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মোট ভোটের চেয়ে ১১টি ভোট বেশি পেয়েছেন। দলটির ২০৮ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জনসহ বিএনপির নিজস্ব ভোট ছিল ২৪৪টি।
এর বাইরে জোটসঙ্গীদের কাছ থেকে তিনি পেয়েছেন তিন ভোট। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাতজন তাঁকে ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘হাতপাখা’ প্রতীকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের ভোটও পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের ভোট দাঁড়ায় ২৫৫টিতে।
অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খোলা হয় এবং নির্ধারিত নিয়মে ভোট গণনা করা হয়। বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে গণনা শেষ হওয়ার পর নির্বাচনি কর্তা হিসেবে সিইসি আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় মির্জা ফখরুল নিজে ভোট দিতে পারলেও সংসদ সদস্য না হওয়ায় অলি আহমদ ভোট দিতে পারেননি। এ নির্বাচনে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া ওসমান ফারুক, মোস্তফা কামাল পাশা, জামায়াতের বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহান ভোট দেননি।
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
দেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় দীর্ঘদিনের সেই ধারার অবসান ঘটে। এর ফলে ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
শুক্রবার শপথ
নির্বাচনে বিজয়ের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও শেষ হবে। একই সঙ্গে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটবে।



