নৌকায় চা বিক্রি করা বাবার মুখে হাসি, রুহির হাতে ৭৫ লাখ টাকার স্কলারশিপ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি( ডিজিটাল): অভাব কখনো স্বপ্নপূরণের পথে চূড়ান্ত বাধা হতে পারে না—ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করা সম্ভব। সুনামগঞ্জের মেয়ে রুহি যেন সেই কথাই আবারও প্রমাণ করলেন। সুনামগঞ্জ উইমেন্স মডেল কলেজের এই মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য পেয়েছেন ৭৫ লাখ টাকার সম্মানজনক স্কলারশিপ।
রুহির এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার বাবার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। নৌকায় করে চা বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। স্বল্প আয়ের পরিবারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। তারপরও মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে কখনো হাল ছাড়েননি। নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে দিন-রাত পরিশ্রম করে মেয়ের শিক্ষার খরচ জুগিয়েছেন।
বাবার সেই ত্যাগ ও পরিশ্রমকে সাফল্যে রূপ দিয়েছেন রুহি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখে নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে অর্জন করেছেন এই বড় আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ।
মেয়ের এমন সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত ও গর্বিত তার পরিবার। দীর্ঘদিন নৌকায় চা বিক্রি করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করা বাবার মুখে এখন মেয়ের অর্জনের আনন্দ। তার ভাষায়, মেয়ের এই সাফল্য যেন দীর্ঘদিনের সব কষ্ট ও ক্লান্তিকে এক মুহূর্তেই সার্থক করে দিয়েছে।
রুহির এই অর্জন শুধু তার পরিবারের জন্যই নয়, পুরো সুনামগঞ্জের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। তার সাফল্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
রুহির গল্প যেন আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—অর্থের অভাব স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না। মেধা, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কঠিন পরিস্থিতিকেও জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।



