আদমজী ইপিজেডে ভূত আতঙ্ক, একদিনের ছুটি ঘোষণা

বাংলা টিভি ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডের ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডে নারী শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার পর রোববার সকালে কাজে ফিরেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন কয়েকজন শ্রমিক। পরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কারখানাটি এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকদের মধ্যে কারখানায় ‘ভূতের আনাগোনা’ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরেজমিন পরিদর্শনে অস্বাভাবিক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে গেলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের বেপজা মেডিকেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শনিবার সকালে শ্রমিকরা আবার কাজে যোগ দেওয়ার পর কয়েকজন ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে অন্য শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শেষ পর্যন্ত দিনের জন্য কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, শুক্রবার এক নারী শ্রমিক কারখানার ভেতরে ‘ভূত’ দেখেছেন বলে দাবি করার পর অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে একে একে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হন। এ ঘটনার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বিল্লাল হোসেন জানান, রোববার প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের ‘ভূত দেখার’ দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে এমন কথা বললেও বিষয়টি বিশ্বাস করার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কারখানার বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আদমজী ইপিজেডের বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জানান, শনিবারও পাঁচ থেকে সাতজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বেপজার কর্মকর্তারা কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেখানে শ্বাসকষ্ট বা দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো অস্বাভাবিক পরিবেশ তাঁদের চোখে পড়েনি।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মধ্যে ভূত নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হলেও অসুস্থতার প্রকৃত কারণ কী, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববারও কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।



