বাংলাদেশ

নতুন ঘর পেলেন সেই ছয় প্রতিবন্ধী ভাই-বোন

বাংলা টিভি ডেস্ক: ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন কাটানো চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ছয় শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইবোন অবশেষে পেলেন নিরাপদ নতুন ঠিকানা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়ার উদ্যোগে তাঁদের পুরোনো ঘরের জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে পাকা বাড়ি।

ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার বড়ালী গ্রামের আজিম বাড়ির মনুহর-ফুলবানু দম্পতির ছয় সন্তানই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারে কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছিল তাঁদের। জরাজীর্ণ ঘরে গাদাগাদি করে বসবাসের পাশাপাশি অর্ধাহার-অনাহারেও দিন পার করতে হয়েছে পরিবারটিকে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁদের দুর্দশার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার নজরে আসে। এরপর তিনি দ্রুত পরিবারটির খোঁজ নেন এবং প্রথমে খাদ্যসহায়তা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেন।

পরে পরিবারটির স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন তিনি। পুরোনো ভাঙা ঘরটি সরিয়ে সেখানে নির্মাণ করা হয় একটি পাকা ভবন। পাশাপাশি তাঁদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রস্তুত করা দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। দোকানের জন্য দেওয়া হয়েছে নতুন একটি ফ্রিজ। নতুন বাড়িতে বসবাসের জন্য খাট, তোশকসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবন্ধী ভাই সুমন হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ত। নতুন ভবন পাওয়ায় এখন তাঁরা নিশ্চিন্তে ও শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন জানান, পরিবারটির নিরাপদে থাকার মতো কোনো ঘর ছিল না। তাঁদের পূর্বপুরুষরা পরিবারটিকে একখণ্ড জমি দিয়েছিলেন। সেই জমিতেই জরাজীর্ণ ঘর তুলে তাঁরা বসবাস করছিলেন। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ত। নতুন পাকা বাড়ি নির্মাণ হওয়ায় এখন পরিবারটি নিরাপদে থাকতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি সবার দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি জানান, রোববার (২৩ আগস্ট) চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে পাকা বাড়িটি ছয় প্রতিবন্ধী ভাইবোনের কাছে হস্তান্তর করবেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button