বাংলাদেশ

মাজারের সেই কুমির এখন কক্সবাজারে

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘিতে থাকা শেষ জীবিত কুমির ‘ধলাপাহাড়’কে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত ১২ আগস্ট খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে সেখানে নেওয়া হয়।

খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে দীর্ঘদিন কোনো প্রাণী রাখার সুযোগ নেই। তাই কুমিরটির জন্য বড় ও উপযুক্ত আবাসস্থল হিসেবে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ককে বেছে নেওয়া হয়।

উদ্ধারের পর খুলনায় থাকা অবস্থায় ধলাপাহাড় প্রায় কোনো খাবারই খেত না। কয়েক দফা খাবার দেওয়ার চেষ্টা করেও সাড়া না পাওয়ায় বন বিভাগ বিদেশি কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্দি অবস্থায় কুমির দীর্ঘ সময় খাবার না খেলেও সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই এবং জোর করে খাওয়ানোর প্রয়োজনও নেই। পরে চিকিৎসা পরীক্ষায় কুমিরটিকে সুস্থ পাওয়া যায়।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়ার পর অবশ্য ধলাপাহাড়ের আচরণে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। পার্কের কর্মকর্তাদের মতে, সেখানে পৌঁছানোর পরদিনই কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছে। এরপর আর খাবার খেতে দেখা না গেলেও বর্তমানে সেটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বন বিভাগের হিসাবে, কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি। ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারের দিঘিতে ছয়টি মিঠাপানির কুমির আনা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে কয়েকটি মারা যায় এবং কয়েকটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ধলাপাহাড়ই দিঘিতে টিকে ছিল।

তবে সম্প্রতি দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। গত ১ জুন রাতে দিঘির মহিলা ঘাটে কুমিরের আক্রমণে আট বছরের শিশু ফাতেমা মারা যায়। পরদিন তার মরদেহ দিঘির পানিতে ভেসে ওঠে। এর আগে একটি কুকুরকেও কুমিরের আক্রমণে মারা যেতে দেখা যায়। এরপর মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ৩ জুন ধলাপাহাড়কে দিঘি থেকে উদ্ধার করে খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

খানজাহান আলী (রহ.)–এর দিঘির কুমির নিয়ে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও লোককথাও রয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, দিঘি খননের পর সেখানে দুটি কুমির ছাড়ার কথা প্রচলিত আছে। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত সতীশ চন্দ্র মিত্রের ইতিহাসগ্রন্থেও ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি কুমিরের উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্তমানে ঐতিহাসিক সেই দিঘির কুমিরের শেষ প্রতিনিধি হিসেবে ধলাপাহাড়ের নতুন ঠিকানা হয়েছে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button