বাংলাদেশ

রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার হত্যাকাণ্ড, খুনের দায় স্বীকার, কারাগারে সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ

বাংলা টিভি ডেস্ক: রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন—মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ দুই যুবককে রংপুর মেট্রোপলিটন মুখ্য হাকিম আদালতে হাজির করে। পরে বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তারা নিজেদের বক্তব্য দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, দুই আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা জবানবন্দি দেওয়ায় পুলিশ আর রিমান্ডের আবেদন করেনি।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর রোববার ভোরে একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button