সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত, অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

বাংলা টিভি ডেস্ক: পঞ্চগড়ে দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা তদন্ত ও আদালতের পর্যালোচনায় মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মুহম্মদ ফজলুল বারী ডিএনএ প্রতিবেদন, সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এ রায় দেন।
কী অভিযোগ ছিল
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে ৩০ বছর বয়সী এক নারী সদর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় জগদল এলাকার জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম, সাদেকুল ইসলাম ও খয়রুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে ওই নারী দাবি করেন, পঞ্চগড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে রাস্তার পাশে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এ সময় তার দুই বছরের শিশুকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করা হয় এবং পরে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী ও তার সন্তানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ডিএনএ পরীক্ষায় মিলেনি আসামিদের সঙ্গে
তবে তদন্তে মামলার অভিযোগের সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ওই নারীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা বীর্যের নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচ আসামির কারও ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি।
বরং ডিএনএ পরীক্ষায় নমুনাটির সঙ্গে জগদল এলাকার আইবুল হক নামের এক ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই নারী আইবুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তদন্তে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের তথ্যও উঠে আসে।
পাঁচ আসামি অব্যাহতি
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত পাঁচ আসামিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম শুরুর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা। তাদের দাবি, ওই নারী ও আইবুল হকের সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের ঘটনা সাজানো হয়েছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান বলেন, আদালত মামলার সব নথি, পুলিশের প্রতিবেদন ও ডিএনএ পরীক্ষার ফল সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তার মতে, এই রায়ের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতার বিরুদ্ধেও একটি বার্তা গেছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ সাজিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে এবং রায়ে তারা সন্তুষ্ট।



