বাংলাদেশ

সজ্জিত প্রাইভেটকার-৪০ মোটরবাইকের শোভাযাত্রায় বাড়ি গেলেন বিদায়ী শিক্ষক

বাংলা টিভি ডেস্ক: টানা ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ইংরেজি বিভাগের প্রধান এ কে ফজলুল হক। শেষ কর্মদিবসে তাকে ব্যতিক্রমী ও জমকালো আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষক-সহকর্মীরা।

সোমবার সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা জানান সহকর্মীরা। পরে ফুল ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজানো একটি প্রাইভেটকারে তাকে বসিয়ে প্রায় ৪০টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তার বাসার উদ্দেশে যাত্রা করেন সহকর্মীরা। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় তার স্ত্রী সালেহা বেগম ও দুই কন্যাও গাড়িতে ছিলেন।

বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ এমএ রউফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কে ফজলুল হকের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, তিনি শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, একজন সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবেও সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে সমানভাবে প্রিয় ছিলেন।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত এ কে ফজলুল হক বলেন, কর্মজীবনের শেষ সময়ে সহকর্মীদের কাছ থেকে এতটা ভালোবাসা ও সম্মান পাবেন, তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। এমন রাজকীয় বিদায় তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হাসান, কলেজের উপাধ্যক্ষ এসএম জাকির হুসাইন, বাংলা বিভাগের প্রধান মুহম্মদ আবদুল আলীম, ফারুক হোসেন, মাহমুদুল হক শামীম, খাইরুন নাহার মল্লিক, হামিদুর রহমান এবং ইংরেজি বিভাগের অনার্সের শিক্ষার্থী সুমি আক্তারসহ অনেকে।

কলেজের অধ্যক্ষ এমএ রউফ বলেন, ‘ফজলুল হক স্যার ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। শিক্ষার্থীদের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল ব্যাপক।’

এ কে ফজলুল হক ১৯৯২ সালে সখীপুর উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং কর্মজীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইংরেজি বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button