‘আমাদের নজরুল’ তারেক রহমান: চিফ হুইপ

বাংলা টিভি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘আমাদের নজরুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তার কবিতা ও লেখনীতে দ্রোহের পাশাপাশি প্রেম, মানবতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানুষের অধিকার উঠে এসেছে। আজকের বাংলাদেশে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যে নেতৃত্ব প্রয়োজন, তারেক রহমান সেই ভূমিকা পালন করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরম খাঁ হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
নূরুল ইসলাম মনি বলেন, নজরুল কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কবি নন। তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তিনি বলেন, নজরুল যুগে যুগে জন্ম নেন না; তাই তার আদর্শ ও সৃষ্টিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। একইভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে তারেক রহমান যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও জনগণের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।
চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ অন্যায়, নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনার শিকার হয়েছে। আয়নাঘর, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের নানা ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং প্রতিকূল সময়েও জনগণের পাশে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের অসঙ্গতি, অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং নিপীড়িত মানুষের অধিকার তার লেখায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এ কারণে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ নজরুলের কাছে চিরঋণী।
তিনি আরও বলেন, নজরুল কেবল কোনো একটি সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর কবি নন, তিনি সব মানুষের কবি। তার সাহিত্যজুড়ে যেমন প্রতিবাদ ও দ্রোহ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভালোবাসা, মানবিকতা ও মানুষের মৌলিক অধিকারের কথা। জীবদ্দশায় নজরুল যথাযথ মূল্যায়ন পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্মরণ করলেই হবে না; তার মানবিক আদর্শ ও চেতনাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করতে হবে।
দেশের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। একটি দেশকে সংকট থেকে বের করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সময়ের পাশাপাশি প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এজন্য জনগণকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একসময় দুর্ভিক্ষ ও নানা সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। দেশের অগ্রগতিতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। বর্তমান বাংলাদেশকেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল মালিক। প্রধান বক্তা ছিলেন সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম ও নাট্যকার বাবুল আহমেদ। এ সময় সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক দলের নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



