ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, প্রধান শিক্ষক বললেন ‘গোপনে ধারণ, নিন্দা জানাই’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল হকের বিরুদ্ধে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার কথা বলে দুই লাখ টাকা এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রার্থী মাসুদ রানার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হককে কথোপকথন করতে দেখা যায়। সেখানে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার নামে একজনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে আরও অর্থ নেওয়ার কথা বলেন বলে ভিডিওতে শোনা যায়।
এদিকে ছেলে কাউসারের দপ্তরির চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষককে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ছেলের চাকরির আশায় ঋণ করে ওই টাকা দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, দপ্তরির চাকরি দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান শিক্ষকের নেই। টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাত দেখানো হয়। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান।
ভিডিওতে স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য পদ দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয়েও কথোপকথন শোনা যায়। ১০ হাজার টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রধান শিক্ষক এ অর্থ নেওয়ার পক্ষে সরকারি চিঠি থাকার দাবি করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তারাও জানেন বলে তিনি দাবি করেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, তার অজান্তে গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এতে দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



