বাংলাদেশ

‘রংপুরে দুই দিন পর মরদেহ থেকে বীর্য শনাক্তের দাবি হাস্যকর’

বাংলা টিভি ডেস্ক: রংপুরে নিজ বাড়িতে নিহত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও তাদের দুই সন্তানের মরদেহ নিয়ে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং মর্গের এক ডোমের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করার পর সেখান থেকে পাওয়া তরল পদার্থকে ‘বীর্য’ বলে দাবি করা এবং এর ভিত্তিতে ধর্ষণের বিষয়টি সামনে আসায় প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত জিসান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, শুধু খালি চোখে কোনো তরল পদার্থ দেখে সেটিকে বীর্য হিসেবে শনাক্ত করা কিংবা তার ভিত্তিতে ধর্ষণের ঘটনা নিশ্চিত করা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা বা পচনশীল মরদেহ থেকে কোনো তরল পদার্থ পাওয়া গেলেই সেটিকে বীর্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণের জন্য নির্ভরযোগ্য ফরেনসিক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের এক ডোমের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেখানে মরদেহ থেকে পাওয়া তরল পদার্থের প্রসঙ্গ তুলে যৌন নির্যাতনের আলামত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, ফরেনসিক পরীক্ষায় ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ফলে ডোমের বক্তব্যের সঙ্গে চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। ডোমের পর্যবেক্ষণ একা কোনো যৌন নির্যাতনের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button