অপ্রতিমের মতো পরিণতি যেন আপনার-আমার সন্তানের না হয়: রাশেদ

বাংলা টিভি ডেস্ক: সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং তার বন্ধুমহল কেমন—এসব বিষয়ে বাবা-মাকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার একমাত্র সন্তান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এ আহ্বান জানান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, সন্তানের চলাফেরা ও তার বন্ধুদের সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেক অভিভাবকের দায়িত্ব। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অভিভাবকদের জন্য বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাশেদ খানের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে, তারা স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচিত। সিসিটিভি ফুটেজে হত্যার আগে অপ্রতিমকে তুহিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা গেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, অপ্রতিম তার চেয়ে কিছুটা সিনিয়র বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করত। এভাবেই তুহিনদের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, বড়দের সঙ্গে চলাফেরা করলেও খারাপ সঙ্গ এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে পরিবারের শাসন ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এসব গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আইফোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়েছিল।
রাশেদ খান মনে করেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পোস্টের পরবর্তী অংশে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ এবং অতীতে বাহিনীগুলোর দলীয়করণের অভিযোগের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেন।
তার দাবি, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক অপরাধ মোকাবিলা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সরকারকে সহযোগিতা করা এবং সামাজিক অপরাধ দমনে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



