ছিনতাইয়ের অভিযোগ ‘মিথ্যা’ দাবি করে অভিযুক্তের সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটায় প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে মোটরসাইকেল ও নগদ ৭৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত শামছুল আলম মিল্টন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের যাদুরতাইড় এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শামছুল আলম মিল্টন তাঁর ও অন্যদের বিরুদ্ধে আনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শামছুল আলম মিল্টন বলেন, সম্প্রতি যাদুরতাইড় গ্রামের চৌধুরীপাড়া গেট এলাকায় মোটরসাইকেল ও নগদ ৭৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাঁর দাবি, এ ধরনের কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। পাওনা টাকা পরিশোধ না করার উদ্দেশ্যেই আমার ও শ্যালকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে আনিসুর রহমান চৌধুরী একটি পুকুরের প্রায় ৮৪ শতক জমিতে মাটি কাটার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে শরিফুল আশরাফ চৌধুরীর কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নেন। পরে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে ওই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন পর এক লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকা এখনো পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন শামছুল আলম মিল্টন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, শরিফুল আশরাফ চৌধুরীর জমি বিক্রির ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জমি বিক্রি করলে টাকার অংশ দিতে হবে এমন দাবি করে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
শামছুল আলম মিল্টন বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর চৌধুরী গেটের সামনে পাওনা টাকা ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে আনিসুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হলে তিনি আনিসুর রহমানের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেন। পরে তাঁকে ও আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর দাবি, থানায় দেওয়া অভিযোগে ঘটনার যে বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। এ ছাড়া গত ১ অক্টোবর একটি গণমাধ্যমের অনলাইনে প্রকাশিত ‘প্রাণনাশের হুমকি ও অস্ত্র ঠেকিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই’ শিরোনামের সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যেরও প্রতিবাদ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শামছুল আলম মিল্টন পাওনা টাকা ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি করেন তিনি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হানান সরদার, রোকনুজ্জামান খান পাপেল, তৌহিদুল ইসলাম, ফয়সাল মোল্লাসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।



