বাংলাদেশ

খসে পড়ছে ইউপি ভবনের পলেস্তরা, মাথায় হেলমেট দিয়ে অফিস করেন কর্মীরা

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ১ নম্বর বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে একজন আহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত দুদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মচারী মাথায় হেলমেট পরে অফিস করছেন।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা জরুরি সংস্কারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে কর্মরত আয়া সবিতা রানীর মাথায় ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তিনি আহত হন। ঘটনার পর পরিষদ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই কর্মরতদের অনেকেই ঝুঁকি এড়াতে হেলমেট পরে দাপ্তরিক কাজ করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রায় প্রতিটি কক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থা নাজুক। হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। কর্মরতদের কেউ কেউ মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেক সেবাপ্রার্থী।

বড়বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, ভবনের কোনো কক্ষই বর্তমানে নিরাপদ নয়। প্রতিদিন হলরুম, তথ্যসেবা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষ সেবা নিতে আসেন। এরই মধ্যে পলেস্তারা খসে কয়েকজন আহত হয়েছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ সরদার বলেন, ভবনটির অবস্থা অনেক দিন ধরেই খারাপ। এর আগে একাধিকবার বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, বর্তমান জায়গায় পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরোনো ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে ভবনের বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কর্মচারীদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button