
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি (ডিজিটাল): টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ছাফদার আলী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ৮ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও চলতি বছর কলেজটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে পাস করেছেন একজন ছাত্রী।
এতে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশ। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও এই নাজুক ফলাফলে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতনমহল।
গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কলেজটির এমন ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জানা যায়, ২০০৭ সালে ডা. মোহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ তাঁর পিতা ছাফদার আলীর নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে কাগজে কলমে ২১ জন শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে ৮ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
তবে শিক্ষক সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের এই ফলাফল নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি বছর কলেজটি থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেন মাত্র একজন। গত বছর ৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে পাস করেন মাত্র ১ জন।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আল মামুন চৌধুরী বলেন, কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিকটক ব্যবহারে বেশি সময় ব্যয় করছে। ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ছাফদার আলী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডিএম সহিদুর রহমান বলেন, এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। তার নাম লাবণ্য। তবে সে জিপিএ কত পেয়েছে তা তিনি জানেন না।
তিনি আরও বলেন, আমি দুই মাস আগে এই কলেজে যোগদান করেছি। আগামীকাল ওই ছাত্রীর জিপিএ কত পেয়েছে তা বলতে পারবো। অধ্যক্ষ নিজেকে সময় টিভির সাংবাদিক পরিচয় দেন। ফলাফল ভরাডুবির বিষয়ে নিজেদের দায় স্বীকার করেন তিনি।
মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বসে আছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অধ্যক্ষ পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষার্থী সংকট, এমন ফলাফল কোনোভাবেই কাম্য নয়। ওই প্রতিষ্ঠান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো বলে তিনি উল্লেখ করেন।



