আন্তর্জাতিক

মালদ্বীপে ৪৪ বাংলাদেশি বন্দির খোঁজ নিল বাংলাদেশ হাইকমিশন, বন্দিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ জোরদার

সোহেল রানা, মালদ্বীপ প্রতিনিধি: মালদ্বীপের মাফুসি কারাগারে আটক ৪৪ বাংলাদেশি বন্দির সার্বিক অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। বন্দিদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে নিজ দেশে সাজা ভোগের সুযোগ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি স্থানান্তর চুক্তি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।

সম্প্রতি হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করে। এ সময় কারাগারে আটক ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করে তাদের অভিযোগ, সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার কথা শোনেন প্রতিনিধিরা। বর্তমানে বন্দিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত এবং ১০ জন বিচারাধীন রয়েছেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল বন্দিদের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, আবাসন, পোশাক, স্বাস্থ্যবিধি ও কারাগারের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয় এবং তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশির কল্যাণ ও মানবিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের আইনি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশন নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে চুক্তিটি কার্যকর হলে উভয় দেশের বন্দিরা নিজ নিজ দেশে পরিবার-পরিজনের কাছাকাছি থেকে সাজা ভোগের সুযোগ পাবেন, যা তাদের পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনর্গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাছেম বিল্যাহ, কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান এবং মো. জসীম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালদ্বীপে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের কল্যাণ, অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button