চট্টগ্রামে বন্যার পানিতে এত সাপ, কামড়ে আহত হয়ে ৮৫ জন হাসপাতালে

বাংলা টিভি ডেস্ক: চট্টগ্রামে চলমান বন্যার মধ্যে সাপের কামড়ের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে সাপে কাটা ৮৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বোয়ালখালী উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পটিয়ায় ১৮ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, রাউজানে ৯ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, সাতকানিয়ায় ৬ জন, আনোয়ারায় ৫ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন, চন্দনাইশে ৩ জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আটজন সাপে কাটা রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন লাউডগা সাপের কামড়ে আক্রান্ত ছিলেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর সবাই সুস্থ আছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
চিকিৎসকদের মতে, টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে সাপের গর্ত তলিয়ে যাওয়ায় সাপগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ও উঁচু স্থানে উঠে আসছে। ফলে এ সময় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সাপে কামড়ালে ওঝা বা কবিরাজের শরণাপন্ন না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি রাতে মশারি ব্যবহার, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং অন্ধকারে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যা শুরুর পর সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগীর চিকিৎসার উপযোগী অ্যান্টিভেনম মজুত আছে। প্রয়োজনে আরও সরবরাহ ঢাকাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আনা হবে।



