‘প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিল্ড’ মেজর মঞ্জুরকে এই তথ্যটি দেন এই মোজাফফর

বাংলা টিভি ডেস্ক: ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে ইংরেজিতে ‘The President has been killed’ বার্তাটি দিয়েছিলেন মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে মামলার নথি ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে। সম্প্রতি দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেফতার হওয়া এই দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ঘটনাটি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ১৯৮১ সালের ৩১ মে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোজাফফর হোসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০ মে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হামলার সময় তিনি ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে এগিয়ে যান। মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মোজাফফর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করার পর গুলি করেন এবং পরে ফোনে জিওসি আবুল মঞ্জুরকে ইংরেজিতে জানান, ‘The President has been killed’।
সামরিক তদন্ত ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতি হত্যা মামলায় ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় হয়। তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর হোসেন। তবে ঘটনার পর তিনি ও মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার এড়াতে মোজাফফর দীর্ঘদিন ভুয়া পরিচয়, জাল কাগজপত্র ও ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। এমনকি নিজের চেহারা, জীবনযাপন ও পরিচিতির পরিধিও পরিবর্তন করেন। তবুও সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ডিবি সূত্র জানায়, তদন্তকারীরা প্রথমে তার মেয়ের কর্মস্থলের সূত্র ধরে নজরদারি শুরু করেন। কয়েক মাস পর্যবেক্ষণের পর সম্ভাব্য বাসা শনাক্ত করা হয়। পরে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে নাকের নিচে থাকা একটি জন্মদাগের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গভীর রাতে বাসার দরজায় গিয়ে নিজেদের একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মী পরিচয় দেন গোয়েন্দারা। দরজা খুলে আসা বৃদ্ধ নিজেকে ‘মোজাফফর, মেয়ের বাবা’ বলে পরিচয় দিলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেফতার করেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, মোজাফফর হোসেন একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং কোর্ট মার্শালে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আত্মগোপনের সময় তিনি দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করেন এবং ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে একাধিক দেশেও ভ্রমণ করেন। পরে গোপনে দেশে ফিরে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন প্রতিবেশীরাও তার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।



