‘হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই সম্পর্কের নাম দিয়েছিলাম স্বামী-স্ত্রী’

বাংলা টিভি ডেস্ক: রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত এক তরুণ পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সাইদুল ইসলাম (২১) ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ডেমরা পুলিশ লাইন্সের একটি কক্ষে থাকতেন সাইদুল। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হন। পরে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার ভোরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডেমরা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
সহকর্মীদের ভাষ্য, সাইদুল দায়িত্বশীল ও প্রাণবন্ত স্বভাবের ছিলেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি ব্যক্তিগত কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্টেও তিনি নিজের মানসিক কষ্ট, একাকীত্ব ও সম্পর্কজনিত হতাশার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাইদুলকে ঘিরে তাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। পুলিশে যোগ দেওয়ার পর পরিবারে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে তারা গভীর শোকাহত। নিহতের বাবা বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু সেই স্বপ্ন অকালেই ভেঙে গেছে।
ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এবং পরে ডেমরা পুলিশ লাইন্সে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ ফেনীর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে আরেক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ সাইদুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করেছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



