গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

বিমান বিধ্বস্তে তানভীরকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি (ডিজিটাল): রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তানভীর আহমেদকে হারানোর এক বছর পেরিয়ে গেলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তার পরিবার।

নিহত তানভীর আহমেদ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম নয়াপাড়া গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে। সে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। দুর্ঘটনার সময় কোচিং ক্লাস শুরুর অপেক্ষায় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল। এসময় মাইলস্টোন কলেজ প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সে মারা যায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, রুবেল মিয়া প্রায় ১০ বছর ধরে স্ত্রী লিপি বেগম ও দুই ছেলে তানভীর ও তাশফিককে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি একজন গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ব্যবসায়ী। বড় ছেলে তানভীর অষ্টম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে তাশফিক একই প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।

২০২৫ সালের ২১ জুলাই দুই ভাই একসঙ্গে কলেজে যায়। নিয়মিত ক্লাস শেষে তাশফিক বাসায় ফিরে এলেও কোচিং ক্লাস করার জন্য তানভীর কলেজে থেকে যায়। কিছুক্ষণ পরই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে তানভীরসহ ৩৬ নিহত হন। এরমধ্যে ২৮ জনই ছিল শিক্ষার্থী। ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তানভীরকে হারানোর শোক আজও বয়ে বেড়াচ্ছে তার পরিবার।

এদিকে সে সময়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিহতদের পরিবারে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারে ৫ লাখ টাকা দেয়ার ঘোষণা দেয়। এছাড়া আহত ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়।

তানভীরের বাবা রুবেল মিয়া জানান, সরকার কর্তৃক ঘোষিত ক্ষতিপূরণ অভিভাবকেরা প্রত্যাখান করেন। একই সঙ্গে নিহতদের শহিদী মর্যাদাসহ ৫ কোটি ও আহতদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানসহ ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবিতে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করেন নিহত ও আহতদের পরিবার।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে দুইজন শিক্ষক তানভীরের গ্রামের বাড়ি নগরভাতগ্রাম নয়াপাড়া আসেন। এরপর জুমার নামাজ শেষে মিলাদের আয়োজন করেন। মিলাদ শেষে তারা পাশের গ্রাম আন্দিপাড়ায় তানভীরের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেখানে একটি হাছনা হেনা গাছের চারা রোপণ করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button