গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্ত রাহান, চিকিৎসার অপেক্ষায় থমকে আছে শৈশব

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: সাত বছর বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের শিশু রাহান। জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে থাকে তার মাথার হাড়। পরে ধরা পড়ে পেটে পাথর রয়েছে। দুই পায়ে শক্তি না থাকায় স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারে না সে।

চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার হলে সুস্থ জীবনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কয়েক লাখ টাকার চিকিৎসা ব্যয় বহন করা দরিদ্র পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, একটি ছোট টিনের ঘরেই রাহানের পরিবারের বসবাস। যে বয়সে সমবয়সী শিশুরা মাঠে খেলাধুলা আর দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত থাকে, সে বয়সে রাহানের চলার সঙ্গী একটি হুইলচেয়ার। সামান্য চলাফেরাও করতে হয় বাবা কিংবা বড় বোনের সহায়তায়। পরিবারের দুর্ভাগ্য যেন এখানেই শেষ নয়। রাহানের শারীরিক অবস্থার কারণে একসময় তাকে রেখে ঢাকায় চলে যান তার মা। এরপর থেকে বৃদ্ধ দাদি, বাবা ও বড় বোনের স্নেহ-ভালোবাসাতেই বেড়ে উঠছে অসুস্থ শিশুটি।

রাহানের বাবা মফু মিয়া একসময় দিনমজুরের কাজ করতেন। বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর ভারী কাজ করতে পারেন না। সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে তিনি ছেলেকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন সড়ক, মার্কেট, পৌর পার্ক এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য চান। সেই অর্থেই কোনোমতে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। অনেক দিনই দুবেলা খাবার জোটে না পরিবারটির। রাহানের চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা আর এগোয়নি। ছেলের চিকিৎসার জন্য পরিবারের গরু-ছাগলসহ যা কিছু সম্পদ ছিল, সবই বিক্রি করে দিয়েছেন স্বজনরা। তবুও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করানো গেলে রাহান স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা, যা দরিদ্র পরিবারটির নাগালের বাইরে।

আক্ষেপ নিয়ে রাহান বলেন, আমি অন্যদের মতো হাঁটতে পারি না, খেলতেও পারি না। খুব কষ্ট লাগে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, সহযোগিতা করবেন। আমি চিকিৎসা করিয়ে সবার মতো বাঁচতে চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম মিয়া বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা পেলে নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে ছোট্ট রাহান। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অন্য শিশুদের মতো তার শৈশবও ফিরে পাবে প্রাণচাঞ্চল্য।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা কর্মকর্তা (রেজিস্ট্রেশন) রাজীব কুমার বাগচী বলেন, ‘রাহানকে ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

দারিদ্র্যের কাছে আজ থমকে আছে একটি শিশুর চিকিৎসার অধিকার। অথচ প্রয়োজন শুধু সময়মতো চিকিৎসা ও কিছু মানবিক সহায়তা। সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং দাতব্য সংগঠনগুলোর সহযোগিতা মিললে হয়তো সাত বছরের রাহানও ফিরে পেতে পারে সুস্থ-স্বাভাবিক একটি শৈশব।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button