ঢাকা মহানগরে প্রতি ঘণ্টায় ‘১ তালাক’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় বিবাহ বিচ্ছেদের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে ২০২৬) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪ হাজার ৯৮৯টি তালাক কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ২ হাজার ৬৯২টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ২ হাজার ২৯৭টি তালাক হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালাকের আবেদনে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মোট কার্যকর হওয়া বিচ্ছেদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ আবেদন করেছেন নারী। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীর শিক্ষা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং পারিবারিক নানা জটিলতা এর অন্যতম কারণ।
বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে ‘মনের অমিল’। তবে এর আড়ালে রয়েছে ভরণপোষণ না দেওয়া, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, পারস্পরিক অসম্মান এবং সম্পর্কের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতির মতো বিষয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এ সবচেয়ে বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে। কারওয়ান বাজার, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ৬৬৬টি আবেদন এসেছে, যার মধ্যে ৫৭২টি করেছেন নারী।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ ও রায়েরবাজার এলাকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল-৩-এও তালাকের সংখ্যা বেশি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এখানে ৬৭৫টি তালাক কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ৬০৭টি আবেদন এসেছে নারীদের পক্ষ থেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক নারী নির্যাতন বা অসম্মানজনক সম্পর্ক মেনে না নিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কারণে অনেকেই একা জীবন পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ছোটখাটো সমস্যা সময়মতো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে দম্পতিরা দ্রুত বিচ্ছেদের দিকে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি, অর্থনৈতিক চাপ, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং সহনশীলতার অভাবও সংসার ভাঙনের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
তালাকের আইনি প্রক্রিয়াতেও নানা সমস্যার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। অনেক নোটিশে অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়ার কারণে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না। ফলে অনেকেই পরবর্তীতে জানতে পারেন যে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই বিচ্ছেদের ঘটনাও বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ অঙ্কের দেনমোহর নির্ধারণ করে বিয়ে এবং পরবর্তীতে দ্রুত বিচ্ছেদের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিবাহ বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপর। পারিবারিক ভাঙনের কারণে অনেক শিশু মানসিক চাপ, একাকিত্ব, পড়াশোনায় অমনোযোগ এবং আচরণগত পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়। তাই বিচ্ছেদ অনিবার্য হলেও শিশুদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।



