রক্ত-যন্ত্রণায় কাটছে শৈশব, টিউমারে আক্রান্ত সাহেরার চিকিৎসায় সহায়তার আবেদন

গাইবান্ধা (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: যে বয়সে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই অসহ্য যন্ত্রণা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে দিন কাটছে পাঁচ বছরের শিশু সাহেরা খাতুনের। জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই চোখে জটিল সমস্যা দেখা দেয়।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সে টিউমারে আক্রান্ত। এখন তাকে বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা, যা দিনমজুর বাবার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুস সামাদ ও জান্নাতি বেগম দম্পতির কোলজুড়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয় সাহেরা। জন্মের মাত্র এক মাস পর তার একটি চোখে ছোট্ট একটি ফোঁড়া দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে পুরো চোখ ঢেকে যায় এবং চোখ থেকে দিন-রাত অবিরাম রক্ত ও পুঁজ বের হতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরে গাইবান্ধা, রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সর্বশেষ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, সাহেরা টিউমারে আক্রান্ত। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
শিশুটির মা জান্নাতি বেগম বলেন, ‘মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আমাদের যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেছে। গরু-ছাগল বিক্রি করেছি, ধার-দেনা করেছি। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন আর চিকিৎসা চালানোর মতো কোনো সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যাবে।’
পরিবারটির বসবাস টিনের আধাভাঙা একটি ঘরে। দেড় শতক ভিটেমাটি ছাড়া তাদের আর কোনো সম্পদ নেই। মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় আব্দুল করিম বলেন, সাহেরার কষ্ট পুরো এলাকাবাসীকেই ব্যথিত করেছে। অন্য শিশুদের খেলাধুলা করতে দেখলেও সে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ ও পুঁজের যন্ত্রণায় রাতের পর রাত ঘুমাতে পারে না। প্রতিদিনই রোগের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছে ছোট্ট শিশুটি।
আরেক যুবক ছামিউল ইসলাম বলেন, তাদের পরিবার বর্তমানে খুবই কষ্টে আছে। তাই মেয়েটির চিকিৎসার খরচ বর্তমানে বহন করা খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছে। সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন করা হলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’
এদিকে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত অস্ত্রোপচারই সাহেরার সুস্থতার একমাত্র পথ। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতাই পারে ছোট্ট এই শিশুটির জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে। সময়মতো চিকিৎসা পেলে হয়তো অন্যসব শিশুর মতো সাহেরাও ফিরে পাবে একটি স্বাভাবিক, সুন্দর ও হাসিমাখা শৈশব।



