রুটির লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে বলাৎকার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: পাউরুটি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গায় আশার আলো বিদ্যাপীঠের প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে বলাৎকার অভিযোগ উঠেছে রাজ্জাক মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ সাতদিনেও অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ধোপাডাঙ্গা আশার আলো বিদ্যাপীঠের প্রথম শ্রেণির ছাত্র (৭)-কে গত ২১ জুলাই পাউরুটির দেয়ার কথা বলে দক্ষিণ রাজিবপুর গ্রামের মোনতাজ আলীর ছেলে মো. রাজ্জাক মিয়া তার বেকারির কারখানার ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে উপর্যুপরি বলাৎকারের ফলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
একসময় আর্তচিৎকারে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক পালিয়ে যায়। বলাৎকারের শিকার শিশুটি এখনও অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে বলাৎকারের বিচার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবাসী ও আশার আলো বিদ্যাপীঠের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ধোপাডাঙ্গায় গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
রাস্তার দুপাশ বন্ধ করে দিয়ে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ধোপাডাঙ্গা আশার আলো বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, এলাকাবাসী জাভেদ আলী, জাহিদ হাসান জিল্লু, বলাৎকারের শিকার শিশুটির পিতা উজ্জল মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাককে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানান। পরে রাস্তায় এলাকাবাসীর একটি ঝাড়ু মিছিল বের হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা রুজু হয়নি। বাদী আইডি ছাড়া এসেছিলেন, তাই তাকে আইডি কার্ড নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। আইডি কার্ড নিয়ে থানায় আসলেই মামলা নেয়া হবে। মামলার পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের অভিযান পরিচালনা করা হবে।



