গ্রাম বাংলাদেশবাংলা

মাদক কারবারির জন্য ৫ পুলিশকে দিতে হয় মাসোহারা, ফোনে মিলল যোগাযোগ ও লেনদেনের প্রমাণ

চাঁদপুর (ডিজিটাল) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এলাকাবাসীর হাতে আটক এক মাদক কারবারির মোবাইল ফোন থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। উপজেলার আয়নাতলি এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে স্থানীয়দের হাতে আটক মাদক কারবারি মিজানুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভয়েস রেকর্ডে উঠে এসেছে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এই জমজমাট মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হতো।

​মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আয়নাতলি এলাকা থেকে চিহ্নিত মাদক কারবারি মিজানুর রহমানকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন স্থানীয় জনতা। এ সময় তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হলে পুলিশ ও মাদক কারবারির মধ্যকার গোপন লেনদেনের চাঞ্চল্যকর চিত্র প্রকাশ্যে আসে।

​আটক মিজানুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তার বেশিরভাগ যোগাযোগ ছিল বিভিন্ন পুলিশ সদস্যের সাথে।

ভয়েস চ্যাট ও চ্যাটলিস্ট থেকে জানা যায় এসআই আরিফুল ইসলাম তাকে উদ্দেশ্য করে মিজানকে বলতে শোনা যায়, “ভাই বিকাশে খরচসহ ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি।”

এএসআই সহিদুল্লাহ তাকে জানানো হয়, “ভাই ১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছি, বাকিটা পরে দেবো।” এমনকি এই পুলিশ সদস্য মিজানকে লিখেছিলেন—“আগামীকালের মধ্যে ৫০ শেষ করবি।” ​পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলাম তাকে বলা হয়, “ভাই ৫ হাজার ১০০ টাকা খরচসহ দিয়েছি, মনে কষ্ট নিবেন না।”

​এছাড়াও এই চক্রের সাথে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিঠু দাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এরশাদ মিয়া এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​জনগণের হাতে আটকের পর মিজানুর রহমান স্বীকার করেন যে, নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি এলাকার বিভিন্ন পুলিশ সদস্যকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি তার গ্রাহক তালিকায় ৪১ জনের নাম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

​স্থানীয়রা জানান, মিজানুর রহমান একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। এর আগেও তিনি একাধিকবার আটক হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

​এলাকাবাসীর পক্ষে সাহে আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবার উপস্থিতিতে যা পেয়েছি, তা সবাই দেখেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেখানে জনগণকে সুরক্ষা দেবে, সেখানেই তারা মাদক ব্যবসার মূল হোতা হয়ে উঠেছে। এখন সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এই ঘটনার পর আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

​স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর জানান, এর আগেও তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাকে সংশোধনের জন্য সতর্ক করা হলেও সে কোনো কথার তোয়াক্কা না করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। আইনি ফাঁকফোকর গলিয়ে সে বারবার বের হয়ে আসে।

​অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, যে সকল পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক ব্যবসায়ীর সাথে সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button